সাইকেডেলিক

0

আতিকুল ইসলাম

সারাটা জগত অন্ধকার। মাথাটা প্রচণ্ড ব্যথাচ্ছে। হঠাৎ জেগে উঠে সে। টিপ টিপ আলো জ্বলছে দেয়ালে। সে জেগে উঠার পর টিপ টিপ থেমে যায় লাইটের। মাথার ব্যথাটা যাচ্ছে না। তবু সে চোখ মেলে তাকায়। দেখে সে একটি আবদ্ধ ঘরে। একটি লোহার বিছানা।বিছানায় সাদা তোশক, বালিশ। সম্পূর্ণ রুমটা আবদ্ধ। কোন বাতাস নাই, বাতাস আসার জায়গাও নাই। মাথার ব্যথাটা খানিকক্ষণ পর থেমে গেল। তারপর শুরু হল পানির পিপাসা। প্রচণ্ড পিপাসায়, ও মনে করতে চাইল ওর নাম কি। কিছুতেই মনে আসছে না নিজের নামটা। এমন সময় খেয়াল করল দেয়ালে একটি আয়না আছে। আয়নার সামনে মুখ নিয়ে দেখে সে। আয়নায় যে প্রতিচ্ছবি তার বয়স আনুমানিক পঁচিশ বছর। হালকা দাঁড়ি, মুখে যন্ত্রনাকাতর মিষ্টি হাসি। ওর মাথাটা আবার কেমন যেন গুলিয়ে গেল। নিজেকে আবিস্কার করে ওর তৃপ্তি হল না, কারণ কেউ ওর নাম ধরে ডাকছে না। কেউ একজন ওর নাম ধরে ডাকলে খুব তৃপ্তি পেত। কে যেন কথা বলে উঠল। এই, শুনছ, শুনতে পাচ্ছ। প্রথমে ও মনে করল নিজের মাথায় মনে হয় শব্দটা হচ্ছে। পরে ভাল করে খেয়াল করে বুঝতে পারল শব্দটা আসছে আয়নার কোনা থেকে। ভাল করে চোখ বুলাতে দেখল একটা সাদা টিকটিকি। টিকটিকি বলল, হ্যাঁ আমিই বলছি। সে খুব অবাক হল। ওটা কিভাবে কথা বলছে! টিকটিকি খানিকটা বিরক্তি ভাব নিয়ে বলল, এখন অবাক হওয়ার সময় নাই। অবাক হয়ে সময় কাটিয়ে দিলে আমরা দুই প্রাণী মারা যাব। সে বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। আমাকে কি চিন? আমার নাম কি? তোমারি বা নাম কি? টিকটিকি ক্লান্ত গলায় বলল, আমার নাম ভালোবাসা আর তোমার নাম বন্ধু। তাহলে বন্ধু একটা কাজ কর। কি কাজ ভালোবাসা? তুমি তোমার বিছানার একটা রড ভাঙার চেষ্টা কর। আমি তাই করছি। এই বলে বন্ধু ক্রমাগত তার পা দিয়ে বিছানায় আঘাত করতে থাকল। এক সময় বিছানার এক অংশ থেকে একটা পায়া খসে পরল। ভালবাসা খুব খুশি হল। ও বলল, এবার দেখ দেয়ালের ওই কোনায়, হ্যাঁ ওই জায়গাটা একটু নরম। ওটা ভাঙার চেষ্টা কর। ভালবাসার নির্দেশে বন্ধু খুব ক্ষিপ্ত গতিতে ওই অংশটা ভাঙার চেষ্টা করল। অনেক কষ্টে একটু ফুট করতে পারল।ভালোবাসা তখন আর নড়াচড়া করছে না। বন্ধু একটু চিন্তিত হল। দেখল ভালবাসার শক্তি খুব কমে আসছে। ভালবাসার শক্তির অভাব দেখে বন্ধু কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। হঠাৎ কিছু মশা ওই ফুট দিয়ে ঢুকতে থাকল। বন্ধু তখন মশা গুল মেরে ভালোবাসাকে খাওয়াতে শুরু করল। কয়েকটা মশা খেয়ে ভালোবাসা একটু সুস্থ হল। কিন্তু বন্ধুর শক্তি কমে আসতে শুরু করল। বন্ধুর মাথাটা আবার চক্কর দেয়া শুরু করল। তখন ভালোবাসার গায়ে শক্তি আছে। ভালোবাসা বলল, বন্ধু

বৃহস্পতিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৮ আশ্বিন ১৪২৬

Share.

About Author

Comments are closed.