টাকা নিয়ে ফ্ল্যাট-দোকান বুঝিয়ে দেয় না ইমকো প্রপার্টিজ

0

প্রতিষ্ঠানের মালিক আহমদ হোসেনের নামে আছে ধর্ষণ মামলা

প্রতিষ্ঠানটির নেই রিহ্যাবের সংগঠন পদ

চট্টগ্রামে ইমকো প্রপার্টিজ নামে একটি ভুয়া ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে অন্যের জায়গা জাল দলিল ও প্রতারণার মাধ্যমে দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া
অনেক গ্রাহককে ফ্ল্যাট ও দোকান দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে পরে আর তাদের ফ্ল্যাট-দোকান বুঝিয়ে দেয়নি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ইমকো প্রপার্টিজের স্বত্ত¡াধিকারী এস এম আহমদ হোসেন ছিলেন একজন ছাতা ব্যবসায়ী। ছাতা ব্যবসায়ী থেকে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই বনে গেছেন
ইমকো প্রপার্টিজের মালিক। গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্য মতে, বিভিন্ন মানুষের জায়গা আত্মসাত ও জমির কাগজ জালিয়াতির মাধ্যমে নামে- বেনামে ব্যাংক থেকে লোন উঠিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন আহমদ হোসাইন। নগরের লালদীঘি মোড়ে অবস্থিত আমান আলী টাওয়ারের জায়গার মালিক ইঞ্জিনিয়ার তারেক মইনুল ইসলামের ভাই ডা. ইকবাল এবং ইঞ্জিনিয়ার রেজা আলী দীর্ঘদিন যাবত আমেরিকা প্রবাসী।

তারা এ জায়গার ব্যাপারে কারো সাথে চুক্তি বা বিক্রি করেনি। কিন্তু তাদের দুইজনের সাক্ষর জালিয়াতি করে আহমদ হোসেন ইমকো প্রপার্টিজের নাম দিয়ে আমান আলী টাওয়ার গড়ে তুলেন। এছাড়া আমান আলী টাওয়ারের নিচতলায় দোকান দিবে বলে মো. রহিম নামের নোয়াখালীর এক ব্যক্তির কাছ থেকে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আহমদ হোসেন। এখনো পর্যন্ত তাকে কোন দোকান দেয়া হয়নি।

জানতে চাইলে মো. রহিম  বলেন, আমান আলী টাওয়ারে দোকান দিবে বলে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয় আহমদ হোসেন। কিন্তু এখনো আমাকে দোকান বুঝিয়ে দেয়নি। উল্টো দোকানের কথা বললে আমাকে নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিহ্যাব চট্টগ্রাম অঞ্চলের চেয়ারম্যান আব্দুল কইয়ুম চৌধুরী  বলেন, ইমকো প্রপার্টিজ নামের কোন প্রতিষ্ঠান আমাদের সংগঠনে অন্তর্ভূক্ত নয়।

আর রিহ্যাবের বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে।  যদি এরকম কেউ প্রতারণার শিকার হন তাহলে সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা আদালতে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন।

এদিকে, আহমদ হোসেনের নামে নারী কেলেঙ্কারিরও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে ফাতেমা বেগম (৩২) নামের এক মহিলাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে টানা ছয় মাস ধর্ষণ করেছে আহমদ হোসেন। এ বিষয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন ফাতেমা বেগম। মামলা দায়েরের পর ফাতেমা বেগমকেও নানা রকমভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন আহমদ হোসেন।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ফ্ল্যাট ব্যবসার নামধারী আহমেদ হোসাইন ব্যবসার আড়ালে ভূমি দখল ও মানি লন্ডারিংসহ নানা অবৈধ কাজে জড়িত। আর সেই অবৈধ
কাজের টাকায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। তার সম্পদের উৎস জানতে দুদকের পক্ষ থেকে অনুসন্ধানে নামলে নেপথ্যের কাহিনী বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যে বছরের পর বছর ধরে আয়কর ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছেন, সেটিও এনবিআর ও কাস্টমস গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে তদন্ত হওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর ও ভ্যাট কমিশনার বাদল সাঈদ  বলেন, ইমকো প্রপার্টিজের করের ব্যাপারে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে কোন গড়মিল পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইমকো প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান এস এম আহমদ হোসেন কোন মন্তব্য করতে রাজি নন বলে জানান।

Share.

About Author

Comments are closed.