বিজেপিকে কংগ্রেসের কটাক্ষ

0

ফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে আড়িপাতা প্রসঙ্গে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিকে ‘ভারতীয় জাসুস (গুপ্তচর) পার্টি’  বলে কটাক্ষ  করেছেন। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।রণদীপ সূর্যেওয়ালা বলেন, ভেবে আশ্চর্য লাগছে যে হোয়াটসঅ্যাপ স্পাইগেটের মাধ্যমে বিজেপি সরকার নাকি দেশের নাগরিক এবং রাজনীতিকদের উপর নজর রাখছিল! সরকার কী ২০১৯ সাল থেকেই সরকার স্পাইওয়্যারের ব্যাপারে জানতো?  যারা ক্ষমতায় রয়েছেন তারা কী ওই অপরাধে দোষী নয়?বিজেপিকে ‘জাসুস পার্টি’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পুরো ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চেয়েছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র। তিনি বলেন, হ্যাক হওয়া ফোনগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপের তরফে যখন বার্তা পাঠানো হয়েছিল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর (কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক) ফোনেও সেই বার্তা এসেছিল।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনএসও’র বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ভারতীয় নাগরিকের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ আনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, ভিডিও কলের সময় তাদের ফোনে পেগেসাস নামের একটি স্পাইওয়্যার বসিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে এনএসও। এরপর থেকেই পুরো ঘটনায় মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।এদিকে বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য কংগ্রেস নেতার অভিযোগের পাল্টা জবাবে বলেন, যে জিনিসের অস্তিত্বই নেই, তা কল্পনা করা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেসের।

ভিডিও ক্যামেরার সবুজ আলো শরীরে পড়ায় রাহুল গান্ধীর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা একসময় দাবি করেছিল। মানুষজনের মধ্যে তাদের নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা এমনই।এর আগে ফোনে আড়িপাতা প্রসঙ্গে শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারই পুরো ব্যাপারটা করেছে। দুই-তিনটি রাজ্য সরকারও এর সঙ্গে রয়েছে।

এরমধ্যে একটি রাজ্যে বিজেপিশাসিত সরকার এবং অন্য একটিতে অন্য দল ক্ষমতায় রয়েছে। এর ফলে ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার খর্ব হচ্ছে।মমতা বলেন, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিচারক, আমলা, সাংবাদিক- সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফোনেই আড়ি পাতা হচ্ছে। এখন হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং মেসেজও রেকর্ড করে নিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। আমার ফোনেও যে আড়ি পাতা হয়, তা তো আমি জানি। পুরো ব্যাপারটাই এক ধরনের চরবৃত্তি বলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা মন্তব্য করেন।

Share.

About Author

Comments are closed.