হালিশহরে যুবলীগ নেতার ছত্রছায়ায় মৌরসী সম্পত্তি দখল

0

চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন রামপুর ওয়ার্ডে জোর পূর্বক ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে মৌরসী জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে চাঁদা দাবি ও জমির মালিকদের মারধরও করা হয়েছে। যুবলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ওই জায়গায় স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও দখলদাররা বহাল তবিয়তে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, রামপুর ওয়ার্ডের হাসমত আলী মুন্সি বাড়ি এলাকার তিন গন্ডা জমির মালিক ছিলেন হাসমত আলী, এহসান আলী ও ছালামত আলী। পরে তাদের ওয়ারিশগণ এ জায়গার মালিক হন। তিন গন্ডা থেকে পরে ২ গন্ডা স্থানীয় আব্দুল মোতালেব জুয়েল ও তার অন্য দুই ভাই কিনে নেয়। বাকি ১ গন্ডা মৌরসী সূত্রে ৩৫ জনের দখলে থাকে। তবে দুই গন্ডা কিনে নিলেও জুয়েল ও তার অন্য দুই ভাই স্থানীয় যুবলীগ নামধারী সাইফুর রহমান পলাশ ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের দিয়ে বাকি এক গন্ডা জায়গাও দখলের পাঁয়তারা করছে। এ কাজে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদ উল্লাহও তাদের সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, জায়গাটির অন্যতম ওয়ারিশ মো. সাইফুল আলম ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত নিজের জায়গায় ঘর নির্মাণের লক্ষ্যে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর কাজ শুরু করেন। কাজ শুরুর তিন দিন পর ২৩ ডিসেম্বর পাশের জায়গার মালিক জুয়েলের প্ররোচনায় কথিত যুবলীগ নেতা পলাশ ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা সেখানে গিয়ে সাইফুল আলমের কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। এসময় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইফুলকে বেদম মারধর করে সন্ত্রাসীরা। এছাড়া নির্মাণাধীন সীমানা দেয়ালও তারা ভেঙ্গে ফেলে। পরে সাইফুলের চিৎকারে আশপাশের মানুষ জড়ো হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং দশ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে কাজ করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়।

এরপরেও চাঁদা না দেয়ায় জুয়েলের ইন্ধনে পলাশের ক্যাডাররা ওই স্থানে সাইফুলের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং জুয়েল নিজেই জায়গাাটি দখল করে নিজে দালান নির্মাণ শুরু করে। জায়গার মূল ওয়ারিশরা বাধা দিলে তাদের মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে আদালত দুই পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন এবং ওই স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। তবে ১৪৪ ধারা জারি করলেও যুবলীগ নেতা পলাশের ক্যাডারদের সহায়তায় জুয়েল সেখানে দালান নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন।

ভুক্তভোগী সাইফুল আলম ও ফরিদুল আলম বলেন, সন্ত্রাসীদের চাঁদা না দেয়ার কারণে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমিতে নিজেরা ঘর বানাতে পারিনি। সেই জায়গা এখন জোরপূর্বক দখল করে নিজে ঘর বানাচ্ছে পাশের জমির মালিক জুয়েল। আদালতে মামলা করার পর আদালত সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করলেও তারা আদালতের নির্দেশেরও তোয়াক্কা করছে না। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক এবং আমাদের জমি আমাদের ফিরিয়ে দেয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা সাইফুর রহমান পলাশ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে সব মিথ্যা। আমি দুই পক্ষকেই চিনি। সবার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। কিন্তু জায়গা দখলের সাথে আমি সম্পৃক্ত নই।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এরশাদ উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আবদুল মোতালেব জুয়েলের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Share.

About Author

Comments are closed.