সিটি মেয়রের সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

0

জার্নাল প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত মি. পিটার ফাহরেনহোল্টেজ । সোমবার সকালে টাইগারপাস সিটি মেয়রের কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে তারাঁ উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সিটি মেয়র জার্মান রাষ্ট্রদূতকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,জার্মানির সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিই বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল। আর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনা জার্মানিতে ছিলেন বলে ঘাতক চক্রের হাত থেকে তাঁরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। এই দুঃসময়ে তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে জার্মান সরকার অকৃত্রিম বন্ধুত্বের পরিচয় দেন।

বৈঠকে সিটি মেয়র চসিকের কর্মকান্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত মি. পিটার নগর আয়তন ও সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটি মেয়র বলেন,৬০বর্গমাইল এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গঠিত। এতে ৪১টি ওয়ার্ড রয়েছে। নগরবাসীর সংখ্য ৭০ লক্ষ। নগরবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে মেয়র,কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলররা নির্বাচিত হয়ে থাকে। এই প্রসঙ্গে তিনি চসিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত করেন। বৈঠকে সিটি মেয়র সিটি কর্পোরেশনের কর্মকান্ড সম্পর্কে বিশদ বিবরন তুলে ধরেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত নগর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বিষয়ে সিটি মেয়রের নিকট জানতে চাইলে সিটি বলেন আমি মেয়র নির্বাচনকালিন সময়ে এই নগরবাসীকে ক্লিন ও গ্রীন সিটিতে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলাম। সেই লক্ষকে নিয়ে আমি নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছিদিনের বেলায় শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। তাই দিনের পরির্বতে গৃহস্থলীর বর্জ্য রাতেই অপসারণ এবং এই কাজে প্রায় ২হাজার জন সেবক নগরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার কাজে নিয়োজিত রাখা হয়। করতে আগ্রহী বলে রাষ্ট্রদূত সিটি মেয়রকে জানান।

এই প্রসঙ্গে তিনি জার্মানির সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।এই সম্পর্ক উত্তরাত্তোর বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞান,বিজ্ঞানও গবেষণার কথা উল্লেথ করে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন সারা পৃথিবীতেই জার্মান ডিগ্রির কদর রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান চর্চাও গবেষণার জন্য জার্মানিকে স্বর্গ বলা হয়। জার্মানির অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো এখানে বেশীর ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি লাগে না। সেই সাথে নানা ধরণের বৃত্তির সুযোগ রয়েছে ।

এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম থেকে জার্মানিতে অধ্যায়ন,গবেষণা করতে ইচ্ছুক সকল শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে জার্মান দুতাবাস সর্বাত্মাক সহযোগিতা প্রদান করবে।বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মি. পিটার দু”দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা,প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমদ ,সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মো: আবুল হাশেম। পরে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন জামান রাষ্ট্রদূতকে ক্রেস্ট প্রদান করেন।

বিডিজার্নাল/এসএ

Share.

About Author

Comments are closed.