চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সমস্যা বাড়ছে,ব্যাহৃত হচ্ছে শিক্ষর্থীদের মানসম্মত পাঠদান

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চিকিৎসা শাস্ত্রে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এখন শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্বক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে এ (চমেক) অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে মাত্রাতিরিক্ত শিক্ষক স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অ্যানাটমি বিভাগেই শিক্ষক স্বল্পতা প্রকট আকার ধারন করেছে।
সূত্রমতে মেডিকেল কলেজে নিময়তান্ত্রিক পড়া লেখার জন্য শিক্ষক শিক্ষার্থী সমস্বয় থাকাতে হয়। মান সম্মত পড়া লেখার ক্ষেত্রে ২০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে দেখাগেছে অ্যানাটমি বিভাগে ৯০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। ফিজিওলজিতে ৭০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন দুইজন। বয়োকেমিস্ট্রিতে একই পরিমাণ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ জন ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ২৮০ জনের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন শিক্ষক।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক সংকট সহ নানা সমস্যার কারণে যথাযথ পাঠদান হচ্ছেনা। ফলে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই তাদের পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। এতে এখান থেকে পাস করে বের হওয়া চিকিৎসকদের মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তবে চমেক কর্তৃপক্ষের দাবি, এ চারটি বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকটের মধ্যেও বাইর থেকে অতিথি শিক্ষক এনে পাঠদান করা হচ্ছে। ফলে কিছুটা হলেও সংকট কেটেছে।
জানাগেছে, অতিসুপরিচিত,পুরানো এবং নামকরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ৩৫টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োাকেমিস্ট্রি ও ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে শিক্ষক সল্পতা প্রকট আকার ধারণ রয়েছে। কলেজের এক বিভাগের শিক্ষক দিয়ে অন্য বিভাগের পাঠদান করা হচ্ছে।
অ্যানাটমি বিভাগে পাঠদান করেন অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফুজ্জামান। এ বিভাগের অপর দুই শিক্ষক কিউরেটর ডা. মো. গোলাম ফারুক ও লেকচারার ডা. ইফাত জরিন শুধু ব্যবহারিক বিষয়গুলো দেখেন। ফিজিওলজি বিভাগে তিন জন শিক্ষকের মধ্যে পাঠদান করেন অধ্যাপক ডা. মমতাজ বেগম ও সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহিন আকতার। কিন্তু এ ভিাগের অপর প্রভাষক ডা. প্রাগোয়া পারমিতা চক্রবর্তী পাঠদান করেন না, তিনি ব্যবহারিক বিষয়গুলো দেখেন।
বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগে পাঠদান করেন দু’জন অধ্যাপক ও দু’জন সহযোগী অধ্যাপক। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক, অধ্যাপক ডা. রেহেনা আজিজ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম ও ডা. এসএম তৌহিদুল আলম। ব্যবহারিক বিষয়গুলো দেখেন লেকচারার ডা. আয়েশা পারভিন।
একইভাবে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পাঠদান করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুমন মুৎসুদ্দি। ব্যবহারিক বিষয়গুলো দেখেন লেকচারার ডা. রাজু প্রসাদ দে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী মানবকন্ঠকে বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিও সুযোগ পায়। মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের ভালো শিক্ষা অর্জন করা প্রয়োজন। কারণ ভালো শিক্ষা না পেলে পরবর্তী জীবনে যেমন এর চরম প্রভাব পড়বে, তেমনি ব্যবহারিক জীবনেও সফল হওয়া কঠিন। এখান থেকে যারা পাশ করে বের হবে তারা ডাক্তার হবে। কাজেই এ পেশা নিয়ে খেয়ালী ভাব থাকা উচিৎ নয়। কিন্তু শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
ওই চারটি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক মানবকন্ঠকে জানান, সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক সংকট নিরসন করা। ভালো শিক্ষা না পেলে একজন ভাল শিক্ষক হওয়া যেমন কঠিনা, তেমনি ভালো ডাক্তার হওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে।
শিক্ষক সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর মানবকন্ঠকে বলেন, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে পাঠদান করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুমন মুৎসুদ্দি। তিনি ২৮০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদানও করেন আবার ফরেনসিকে পোস্টমর্টেমের কাজও করেন। এর বাইরে তাকে আবার কোর্টেও যেতে হয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করতে বাইর থেকে অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকার অবগত আছেন। খুব শিগগরই এ সংকট কেটে উঠবে বলে আমরা আশা করছি।
উল্লেখ্য চমেকে স্নাতক পর্যায়ে রয়েছে ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএস শিক্ষাকার্যক্রম। এরপর এক বছর মেয়াদি হাতে-কলমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা (ইন্টার্নশিপ) দেওয়া হয়। এছাড়া স্নাতকোত্তর পর্যায়ে এমডি ও এমএস শিক্ষাকার্যক্রম চালু রয়েছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.