তিনটি করে গাছ লাগাতে আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশবাসী প্রত্যেককে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সবাই যদি একটি বনজ গাছ, একটি ফলজ এবং একটি ভেষজ গাছ লাগায় তাহলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। আমরা যত বেশি দেশকে সবুজে ভরে ফেলতে পারব, তত বেশি আমাদের প্রকৃতি রক্ষা পাবে। আমাদের মানুষ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০১৮ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মরণে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একযোগে ৩০ লাখ গাছ লাগানো কর্মসূচির উদ্ধোধন করেন।

শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী একটি ছাতিম গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রের পাশে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০১৮’র উদ্ধোধন করেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই, নগর প্রাণ প্রকৃতি সাজাই’

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন পদক ২০১৮, জাতীয় পরিবেশ পদক ২০১৮ এবং বৃক্ষ রোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৭ এবং সামাজিক বনবিভাগের উপকারভোগীদের হাতে লভ্যাংশের চেক তুলে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে বৃক্ষ সম্পদে পরিণত করতে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম সারাদেশে বৃক্ষরোপন অভিযান চালু করেছিলেন। তিনি নিজের হাতে গাছ লাগিয়ে এই অভিযান শুরু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জনগণকেই আহ্বান করেছিলেন যেন সবাই মিলে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালায়। আর আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলের পক্ষ থেকে ১৯৮৩-১৯৮৪ সাল থেকে এই বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু করি। প্রতি বছর ১লা আষাঢ় থেকে কৃষক লীগের উদ্যোগে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান শুরু হয়। তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক এবং পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার এখন বিশ্বের একটি অন্যতম সমস্যা। সাগর মহাসাগরেও জাহাজ থেকে এই প্লাস্টিক ফেলার ফলে এখন অনেক জায়গায় জাহাজ চলাচলই বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা এখনো অতটা খারাপ অবস্থায় যাইনি। আমরা সব সময় জীব বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেই। কারণ পরিবেশ রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পরিবেশ রক্ষা, বনভূমি সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের প্রসার ঘটাতে আমরা নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। তাতে একদিকে দূষণ মুক্ত হবে দেশ, অন্যদিকে আমাদের দেশের মানুষের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হবে।

‘১৯৯৬ সালে সরকারে এসে দেখেছিলাম, এই কর্মসূচির নামে টাকাগুলো কিছু এনজিওকে ভাগ করে দেওয়া হতো। তারা যে কী করত তার কোনো হিসাব-নিকাশ ছিল না। আমরা উদ্যোগ নেই, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি করা হবে। মানুষ যেন লাভবান হয়।’

পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিশ্ব পরিবেশ নিয়ে যখন আলোচনা করছি কিন্তু আগে ভাবতে হবে নিজের দেশের কথা। কাজেই প্রত্যেককে গাছ লাগাতে হবে।

বৈষ্ণিক উষ্ণতার কারণে বাংলাদেশ সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঝুঁকিতে আছে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে মানুষ। তাদেরকে হয়তো সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হতে পারে। এ কথা চিন্তা করেই আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।

বনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।

সাব্বির// এসএমএইচ//১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং ৩রা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.