রিফাত হত্যাকাণ্ড: এবার সুর পাল্টালেন পুলিশ সুপার

0

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনায় রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেছিলেন, মিন্নি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত। আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগেই তার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে খুনের পরিকল্পনায় মিন্নির জড়িত থাকার কথা পুলিশ সুপার বলেছিলেন।

কিন্তু আদালতে দেওয়া মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশের পর পুলিশ সুপার তার সুর পাল্টে ফেলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার আগে তিনি মিডিয়াকে তার (মিন্নি) সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। বলেছেন, তদন্তে ঘটনার সঙ্গে মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

আদালতে মিন্নির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে একটি জাতীয় দৈনিক গত সোমবার সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার জন্য ওই দিন পুলিশ সুপারের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করেন। পুলিশ সুপারের কাছে সাংবাদিকরা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সম্পর্কে জানতে চান।

তিনি তখন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তাধীন মামলার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রকাশের সুযোগ নেই। যদি প্রকাশ পায় তাহলে মামলার তদন্তে সমস্যার সৃষ্টি হবে। তখন সাংবাদিকরা জানতে চান, একটি দৈনিক মিন্নির জবানবন্দি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। তারা কিভাবে তথ্য পেল? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপি পুলিশের পাশাপাশি আদালতে রক্ষিত থাকে। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা ওই জবানবন্দির কপি কাউকে সরবরাহ করেননি। এমনকি ওই পত্রিকাটি কোথা থেকে জবানবন্দির কপি পেয়েছে তাও তিনি জানেন না।

মিন্নিকে রিমান্ডে নেওয়ার পরদিন সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার যা বলেছিলেন

মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় গত ১৭ জুলাই। এর পরদিন মামলার অন্যতম আসামি রিশান ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন পুলিশ সুপার তাঁর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। শুরুতেই পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, ‘এই মামলা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং দু-একটি মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে। আমি আজকে আপনাদের সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে যাচ্ছি। যাতে করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না থাকে।’

খুনের সঙ্গে জড়িত বলে মিন্নি কি নিজে স্বীকার করেছেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ‘করেছে।’ কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মিন্নি স্বীকার করেছে বলেই আমরা এই বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে যৌক্তিকতা তুলে ধরে রিমান্ডের আবেদন করেছি। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’ মিন্নি কিভাবে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত—জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মিন্নি শুরু থেকেই, যারা হত্যাকারী ছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। সে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার অংশ। এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পূর্বেও সে এ হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে পরিকল্পনার জন্য যা যা দরকার, মিটিং করেছে হত্যাকারীদের সাথে।’

সাব্বির=২৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.