অভ্যন্তরীণ সংকট না থাকায় চট্টগ্রামে কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ পর্যাপ্ত

0

সাব্বির আহমেদ, চট্টগ্রাম :

অভ্যন্তরীণ সংকট না থাকায় এবার চট্টগ্রামে কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে বলে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।
চট্টগ্রামে এবার কোরবানিতে গবাদিপশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৫৭টি। হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি। এর মধ্যে গরু ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৭টি, মহিষ ৪৮ হাজার ২৮৪টি ও ছাগল-ভেড়া ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৮টি। গতবছর কোরবানি দেওয়া হয় ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৫টি পশু। এরমধ্যে গরু ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩, মহিষ ৩ হাজার ৩০৯টি, ছাগল-ভেড়া ২ লাখ ৬৮০টি এবং অন্যান্য পশু ছিলো ৩টি। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩১টি পশু কোরবানি হয়েছিল। এর মধ্যে গরু ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮৪টি, মহিষ ৩ হাজার ৩টি, ছাগল-ভেড়া ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৪১টি ও অন্যান্য পশু ৩টি।
৭ হাজারের বেশি খামারে গবাদিপশু লালন-পালন করা হয় খামারিদের দ্বারা। গবাদিপশু হৃষ্টপুষ্টের কাজ খামারিদের দ্বারা করা হয়েছে খামারে। ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশু প্রবেশ নিষেধ করা হলেও চট্টগ্রামে কোরবানির ঈদে গবাদিপশুর সংকট হবে না জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা থেকে জানা যায় যে, চট্টগ্রামে বিগত বছরগুলোর মত এবারও কোরবানির পশুর সংকট হবে না। হৃষ্টপুষ্ট প্রচুর গবাদিপশু মজুদ রয়েছে। বিগত দুইতিন বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর বাজারে সংকট হয়নি চট্টগ্রামে, চট্টগ্রামের পশু ছাড়াও প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পাবনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলা ও তিন পাবর্ত্য জেলার পশু আসবে। অভ্যন্তরীণভাবেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। গত ৩১ মার্চ তৈরি করা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের এক তালিকায় দেখা গেছে, মিরসরাইয়ে ১৬৭, সীতাকু-ে ৮২, সন্দ্বীপে ৭১, ফটিকছড়িতে ১৭০, রাউজানে ২৬৪, রাঙ্গুনিয়ায় ২২৫, হাটহাজারীতে ৩০৩, বোয়ালখালীতে ১৬৯, পটিয়ায় ৫৩৯, চন্দনাইশে ৫৬০, আনোয়ারায় ৪০০, সাতকানিয়ায় ২২৫, লোহাগাড়ায় ৪৫০, বাঁশখালীতে ১৬৯, নগরের কোতোয়ালীতে ৭৫, ডবলমুরিংয়ে ৮৪ ও পাঁচলাইশে ৭৫টি মিলে চার হাজারের বেশি খামার রয়েছে। এসব খামারে হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭১টি ষাঁড়, ৯১ হাজার ২১১টি বলদ, ১৫ হাজার ৯৮৮টি গাভি, ৩৯ হাজার ৬০৭টি মহিষ, ৯২ হাজার ২০৯টি ছাগল ও ৩০ হাজার ৮৮৭টি ভেড়া। অন্যদিকে ১ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ ১৭টি থানা ও উপজেলায় আরো ৩ হাজার ২২টি খামারে ৯৪ হাজার ৬৪৮টি পশু হৃষ্টপুষ্ট করা হয় বলে সম্ভাব্য তালিকায় ধরা হয়েছে। এসব পশুর মধ্যে ৪২ হাজার ৩২৮টি ষাঁড়, ১০ হাজার ৪০৮টি বলদ, ৮ হাজার ৭৮১টি গাভি, ৮ হাজার ৬৭৭টি মহিষ, ২০ হাজার ৪৪টি ছাগল ও ৪ হাজার ৪১০টি ভেড়া হয়েছে।
জেলা প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায় যে, কোরবানির গবাদিপশুর সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে দেশি মাঝারি আকারের গরুর। তাছাড়া, নিরাপদ গো-মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা খামারিদের উদ্বুদ্ধ করে। মনিটরিং এর ফলে আশানুরূপ ফল এসেছে।
চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা ও লোহাগাড়ায় খামারের সংখ্যা বেশি হলেও সব উপজেলাতেই অনেক গৃহস্থ বাড়িতে গরু-ছাগল লালন-পালন করেন। গৃহস্থের পশুগুলোয় মূলত তালিকায় আসছে। তাছাড়া খামারির সংখ্যা কম হলেও মিরসরাই, সন্দ্বীপ ও ফটিকছড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু রয়েছে। চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোর মধ্যে মিরসরাইতে ৪২৬৮০, সীতাকু-ে ৩১১১৭, সন্দ্বীপে ৪৮৫৮৯, ফটিকছড়িতে ৪০২১৬, রাউজানে ৩১৮৭৯, রাঙ্গুনিয়ায় ৩২৫০২, হাটহাজারীতে ৩১৬৫৩, বোয়ালখালীতে ৩৪৮১২, পটিয়ায় ৪৮৮৭৪, চন্দনাইশে ৩০৪৪৩, আনোয়ারায় ৩৮৬৮৫, সাতকানিয়ায় ৩১৯৩২, লোহাগাড়ায় ২৮১১৯, বাঁশখালীতে ৩০০৫৪, নগরের কোতোয়ালী থানায় ৩১৬১, ডবলমুরিংয়ে ৬৩৩৮ ও পাঁচলাইশে ৬৫১৭টি পশু রয়েছে।
তাছাড়া জানা যায় যে, গবাদিপশুর খামারগুলোতে ‘স্বাস্থ্যহানিকর রাসায়নিক দ্রব্যের’ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
কোরবানির জন্য গবাদিপশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধের বিক্রি, সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকি ছাড়াও জেলা ও উপজেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাব্বির=২৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.