স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসহীন কুচক্রিমহল এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে

0

বিডিজার্নাল রাবি প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেছেন,বাংলাদেশ যখন অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তখন একদল কুচক্রিলোক দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যারা স্বধীনতায় বিশ্বাস করেনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেনা তারা অধ্যাপক রেজাউলের মত নিরীহ মানুষকে হত্যা করে দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.এফ.এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচার দাবিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে প্যারিস রোডে আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ কোনো মৌলবাদী রাষ্ট্র নয়। তাহলে কেনো আমরা একের পর এক হত্যার সুযোগ দিবো? রাবির একযুগে চার শিক্ষকের হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সব হত্যাকারীরা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। হত্যাকারীরা আসকারা পেয়ে শক্তি সঞ্চয় করে আবার এই সব হত্যাকর্ম ঘটাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় আছে, কিন্তু তাদের আচরণ দেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে মনে হয় না।

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা পরাজিত শক্তি ছিলো, যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষ চারিদিকে ছড়াতে চেয়েছিলো, তারা আবার বাংলাদেশকে আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ মহাসমাবেশের ডাক দেয়। এতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করে।

রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আজম এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির মহাসচিব ড.মাকসুদ কামাল বলেন,এটা শুধু কোন একজন শিক্ষককে হত্যা করা নয়,গোটা জাতিকেই যেন হত্যা করা। এই নৃশংস হত্যাকান্ড কিছুতেই মেনে নেবার নয়। আমরা এই খুনকে শেষ খুন হিসাবে দেখতে চাই। এছাড়া দোষীদের নূন্যতম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।।

সমাবেশে রাজশাহী-২ আসনে সাংসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এভাবে অভিজিৎ, রাজীব, কলাবাগানের জোড়াখুনের মতো একটির পর একটা অসংখ্য খুন হয়, কিন্তু কোনো বিচার হয় না। এটা আমাদের দেশের পশ্চাৎগমন।

ফজলে হোসেন বাদশা সংবিধানের প্রতি জোর দিয়ে বলেন, আমাদেরকে সংবিধানটা ভালো করে পড়া উচিৎ। সেখানে পরিষ্কার করে বলা আছে, রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পক্ষপাত করে না। কিন্তু ঘটনা ঘটছে উল্টো।

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিন বলেন, রেজাউল করিমকে হত্যা শুধু একজন শিক্ষককে হত্যা করা নয়, এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে হত্যা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে হলে নিজেদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে এর প্রতিরোধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন, আমার মতো আর কোনো নারীকে যেন নিজের স্বামীর নিহতের ঘটনায় শোকসভায় কথা বলতে না আসতে হয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও তিনজন শিক্ষক নিহত হলেন, কোনো বিচার হয়নি। মাঝে মাঝে মনে হয় বিচার পাবো, আবার পরক্ষণেই আশা ছেড়ে দিই।

এগার দিন পার হয়ে গেল কোন সন্ধান পাওয়া গেলো না,আশার আলো দেখতে পেলাম না। তবে আমি এই হত্যার বিচার পাব কী?

অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর কন্যা রিজওয়ানা হাসিন শতভী বলেন, দেশে যে বিচার হীনতার সংস্কৃতি চলছে তাতে আমি খুব একটা আশাবাদী হতে পারছিনা। একটা হত্যাকা-ের বিচার না হওয়া মানে আরেকটা হত্যাকা-ের উসকানি দেয়া। তাই দ্রুত এ হত্যাকা-ের বিচার করেন। আপনারা যদি এ হত্যাকা-ের বিচার না করতে পারেন তাহলে ১৪ ডিসেম্বর নয় বছরের ৩৬৫ দিনই বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করতেও হতে পারে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু সঞ্চালনায় এবং সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোকাদ্দাম হোসেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, রুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি নীরেন্দ্র নাথ মোস্তাফী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান, রাবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধরণ সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল করিম, সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন প্রমুখ।

এদিকে শিক্ষক সমিতি আয়োজিত মহাসমাবেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন,ইংরেজি বিভাগ,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, সমাজকর্ম,সমাজবিজ্ঞান,শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট,ভূ-তত্ব ও খনিবিদ্যা,প্রণিবিদ্যা বিভাগ, নৃবিজ্ঞান, কৃষি অনুষদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মার্কেটিং বিভাগ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ইত্যাদি।

এর আগে সকাল ১০ টার সময় এক মৌন মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি মহাসমাবেশে এসে যোগ দেয়। বেলা সাড়ে ১০ টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাবেশে যোগ দেয়।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ // ৩ মে ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.