অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া লোহাগাড়া ভূমি অফিস

0

মনির আহমেদ আজাদ, লোহাগাড়া প্রতিনিধি :

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিস। উৎকোচ ছাড়া কোন কাজই হয় না এখানে। এমনকি ঘুষ না দিলে ফাইল গায়েবের মত ঘটনাও ঘটছে।

গত ২ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিজনূর রহমান বরাবর ভূমি অফিসে ফাইল গায়েবের লিখিত অভিযোগ করেন আমিরাবাদ দর্জিপাড়া এলাকার কৃষক ফরিদুল আলম। অভিযোগে প্রকাশ, আমিরাবাদ মৌজার বিএস খতিয়ান নং-১ ও বিএস ২০৩৮৩ দাগের ২ দশমিক সরকারি খাস চলাচলের রাস্তা এলাকার প্রভাবশালী আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় রাস্তার অবৈধ দখল মুক্তের জন্য কৃষক ফরিদুল আলম সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত করেন। ইতিপূর্বেও রাস্তাটির অবৈধ দখল উচ্ছেদের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (রাজস্ব) কর্তৃক লোহাগাড়া উপজেলা ভূমি অফিসকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে উক্ত উচ্ছেদ নোটিশ এখনও পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি। ফলে কৃষক ফরিদুল আলম গত ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল চলাচলের রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবরে লিখিত আভিযোগ প্রদান করেন। উক্ত আভিযোগের প্রেক্ষিতে পদুয়া ইউনিয়ন তহসিলদার, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো ও সার্ভেয়ার সরেজমিন পরিদর্শন করে পৃথক পৃথকভাবে সরকারি জনসাধারণের চলাচলের পথ জোর পূর্বক বে-আইনীভাবে দখল করে রেখেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তারপরও কাজের কাজ কিছু হয়নি। ওই অফিসে কর্মরত অফিস সহকারী মো. এরশাদ আলম তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফাইল প্রেরণ করা হয়েছে এবং ওই অফিস থেকে উচ্ছেদ নির্দেশ আসবে বলে কালক্ষেপন করতে থাকেন। সর্বশেষ ফরিদুল আলম অফিস সহকারি মো. এরশাদকে প্রতিপক্ষগণ বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করলেও কেন উচ্ছেদ করা হয়নি জানতে চাইলে তাকে ফাইলটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে কৃষক ফরিদুল আলম জানান, প্রতিপক্ষগণ এলাকার প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় মোটা অংকের আর্থিক ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারীর যোগসাজশে সংরক্ষিত মামলার ফাইলটি গায়েব করে ফেলেছে।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কানুনগো বদলিজনিত কারণে পদ ২টি শূণ্য হওয়ায় সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে চলছে এ অফিসের কার্যক্রম। বর্তমানে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফিজনুর রহমান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তথা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। ভূক্তিভোগীরা জানান, নামজারি করার সঙ্গে ভূমি অফিসের যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে খতিয়ান বের করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজনকে ভূমি অফিসে নানান ভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাছাড়া ভূমি অফিসে অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে ফাইল ও নথি গায়েবের ঘটনা ঘটছে। তাই লোহাগাড়ার সচেতন নাগরিক সমাজ ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ // ৩ মে ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.