শহরজুড়েই এলইডি বাতি খরচ ছাড়াই মেগা প্রকল্প চসিকের

0

এম হোসাইন

শহরজুড়েই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি সড়কবাতি স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। প্রতিটি এলইডি বাতি স্থাপনে খরচ পড়বে ৪৯ হাজার টাকা। বিপুল ব্যয়ের এ প্রকল্প কোন ধরনের খরচ ছাড়াই শেষ করতে চাই চসিক। তাছাড়া সড়কবাতির সাথে অন্যান্য সুযোগ সুবিধার সমন্বয়ও ঘটানো হবে। ক্রমান্বয়ে নগরজুড়ে খরচবিহীন এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। অবশ্য চসিককে বর্তমান বিদ্যুৎ খরচের একটি অংশ তখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানকে দিতে হবে। 

প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চাইলে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, বিদেশী অনেক এক্সপার্টের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা সবাই একই কথা বলেছে। বর্তমান যে বিদ্যুৎ খরচ, এলইডি বাতি স্থাপন করা হলে সেই খরচ ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ সাশ্রয় হবে। আমাদের কাছে এখন বেশ কয়েকটি অফার আছে। 

তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসা অফারের মধ্যে তারা নিজেরাই বিনিয়োগ করতে চাই। ১০ বছর পর্যন্ত তারা সেটার ম্যানটেনেন্সও করবে। এরপর আমাদের হ্যান্ডওভার করবে। তার বিনিময়ে বর্তমানের বিলটার তাদের দিতে হবে। 

বর্তমান শহরের আলোকায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, এটা সত্য আমরা এখনো শহরের পুরোটা আলোকায়ন করতে পারিনাই। সড়ক বাতির ৫০ শতাংশ আমরা দিতে পেরেছি। এতে আমাদের বিল আসে (স্থাপনার বিল বাদে) ৬৫ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা।

এদিকে পরিক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসাবে ১০০টি এলইডি সড়কবাতি লাগিয়েছে চসিক। পাইলট প্রকল্পের আওতায় নগরীর কাজির দেউড়ি মোড় হতে লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাস মোড় পর্যন্ত এ সড়কবাতিগুলো লাগানো হয়। এতে প্রতিটি এলইডি বাতির খরচ পড়েছে প্রায় ৪৯ হাজার টাকা করে। গতকাল মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এ প্রকেল্পের উদ্বোধন করেন।

প্রকল্প সম্পর্কে চসিকের বিদ্যুৎ ও পানি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কাউন্সিলর মো. জাবেদ বলেন, বিদ্যুৎ ঠিক থাকলে অন্যান্য কাজও ঠিক থাকে। বিদ্যুৎতের সাথে এখন সবকিছুই নির্ভর করে। সোডিয়াম বাতির নিচে অন্ধকার ছিল। তাই পাইলট প্রকল্প হিসাবে ১০০টি বাতি লাগানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, ঢাকায়ও এলইডি বাতি লাগনো হয়েছে। আমাদের পুরো শহরে এলইডি বাতির আওতায় আনতে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা খরচ হবে। এখন আমাদের প্রতিমাসে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা সড়কবাতির বিদ্যুৎ বিল আসে। এলইডি লাইট লাগানো হলে সে বিল অনেক কমে আসবে।

জাবেদ বলেন, এলইডি বাতির সবচেয়ে ভাল দিক হচ্ছে বেশি আলো। আর সড়কে আলো থাকলে নিরাপত্তা বাড়বে। আমরা এখন যে বিদ্যুৎ বিল দিই, সেটা থেকে কেটে কেটে এলইডি স্থাপন করা হবে।

পাইলট প্রকল্পে লাগানো ১০০টি এলইডি বিদ্যুৎ শেইডের বৈশিষ্ট হলো, বেশি আলো, দীর্ঘ স্থায়ী এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। আগামি পাঁচ বছর পর্যন্ত বাতিসমূহের রক্ষণাবেক্ষন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে করে আগামি পাঁচ বছর এসব বাতির পেছনে চসিকের কোন খরচ থাকবে না। এখন লালখান বাজার হতে টাইগারপাস অর্থাৎ প্রধান সড়কে লাগানো হয়েছে ১১৫ ওয়াটের এলইডি বাতি। কাজির দেউড়ি হতে লালখান বাজার পর্যন্ত সড়কে লাগানো হয়েছে ৭৮ ওয়াটের বাতি। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৪৯ লাখ টাকা। বর্তমানে সড়ক বাতির খাতে বিদ্যুৎ চাহিদা আছে ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। এলইডি বাতি স্থাপনের কার্যক্রম সমাপ্ত হলে ক্রমান্বয়ে বিদ্যৎ চাহিদা ১ দশমিক ৫ মেগাওয়াট কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহফুজুল হক বলেন, এলইডি লাইট অনেক দীর্ঘস্থায়ী। এটার রক্ষনাবেক্ষণ ব্যয় কম। তাছাড়া সাধারণ লাইটের চেয়ে এ লাইট পাঁচগুন বেশি আলো দেয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এলইডি বাতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। এটি বর্তমান বিশ্বে অধিক গ্রহণযোগ্য ও পরিবেশ বান্ধব।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ // ৩ মে ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.