গাঁয়ের পথে ছুটছে ব্যাটারি চালিত চার্জার অ্যাম্বুলেন্স

0

আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি:

স্বাস্থ্য সেবা দোরগোড়ায় পৌছে দিতে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছেন। আর এ কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে মা ও শিশুসহ প্রায় সবধরনের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়ে থাকে। মা ও শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে  ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হয়েছে। উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই অ্যাম্বুলেন্সটির যাত্রা শুরু হয়।

গত ২৮ শে জানুয়ারীতে উপজেলায় ‘কাইযেন’ সেবা মেলায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা হয়। নতুন উদ্যোগে একটি ইজিবাইককে (ব্যাটারি চালিত চার্জার) অ্যাম্বুলেন্স  রূপ দেওয়া হয়েছে। সবুজ রঙের ইজিবাইককে নাম দেয়া হয়েছে মাতৃসেবা। ছাদে ঘূর্ণয়মান লাল আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়ে সাইরেন বাজিয়ে গ্রামের কাঁচা-পাকা মেঠো পথে ছুটে চলে সেই অ্যাম্বুলেন্স।

এছাড়া জরুরি সেবা নিতে অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে লেখা রয়েছে মোবাইল নম্বর। আর ভেতরে রয়েছে গদি আঁটা আসনে সাহায্যকারী ও প্রসূতি শুয়ে-বসে যাওয়ার সুব্যবস্থা। রাত-বিরাতে মোবাইল ফোন থেকে কল করে ঠিকানা জানিয়ে দিলেই বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে হাজির হবে এই অ্যাম্বুলেন্স।

অ্যাম্বুল্যান্সের সেবাগ্রহণকারী এলাকাবাসী রহমান আলী, হারুন, সৈকত, মনোয়ারা বেগম জানান, এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি পেয়ে আমরা খুবই উপকৃত হয়েছি। আমাদের কল্পনার বাহিরে ছিল। কখনো ভাবিনি যে এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স পাবো। বিপদ-আপদ যেকোন সময় আমরা ফোন করলেই অ্যাম্বুলেন্স চলে আসে। এছাড়া ভাড়াও সাধ্যের মধ্যে।

চালক আল-আমিন হোসেন জানান, গত তিন মাসে ৪০/৪৫জন ডেলিভারী রোগীদের নিরাপদে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌছে দেয়া হয়েছে। এলাকার প্রায় সবার কাছে মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে। যেকোন সময় ফোন করলে রোগীদের বাড়ীতে চলে যায়। রোগীদের সেবা ছাড়াও বাঁকী সময় যাত্রীদের ভাড়া মারা হয়। আর ভাড়া থেকে অর্জিত  প্রতিদিন ১শ’ টাকা করে সিসি’র একাউন্টে জমা দিতে হয়। চার্জ বাবদ ৫০টাকা খরচ গ্যারেজে দিতে হয়।

ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শ্রী রাম প্রসাদ ভদ্র জানান, বেশির ভাগই মানুষ গ্রামে বসবাস করে। যারা গরীব প্রকৃতির মানুষ তাদের দ্বারা বেশি টাকা খরচ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া সম্ভব হয়না। কম খরচে সবসময় সেবা দেয়া যায় এজন্য অ্যাম্বুলেন্সটি তৈরী করা হয়েছে। আপাতত এটি শুধু ভীমপুর ইউনিয়ন বাসীদের জন্য চালু করা হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্সটি ইউনিয়নের বাগাচারা কমিউনিটি ক্লিনিক (সিসি) তে একালীন দিয়ে দেয়া হয়েছে। বাঁকী যে দুটি সিসি আছে আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমি নির্বাচিত হতে পারলে সেখানেও দুটি অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হবে। অ্যাম্বুলেন্সটিতে একজন চালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দিনের যে কোন সময় ভীমপুর থেকে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নওগাঁ সদর হাসপাতালের নেয়ার জন্য ১শ’ টাকা। এবং সন্ধার পর থেকে ভোর পর্যন্ত দেড়শ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিনের আয় থেকে ১শ’ টাকা করে সিসি’র একাউন্টে জমা দিতে হবে। যাতে অ্যাম্বলেন্সটি মেরামতের জন্য ওই একাউন্ট থেকে খরচ করা যায়।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজকির-উজ-জামান জানান, উপজেলা পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন বরাদ্দ থাকে। এর মধ্যে যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, বাজার, রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নের কাজ করা হয়ে থাকে। অথচ ম্যানুয়ালে বলা হয়েছে ৩৮ ধরনের প্রকল্প গ্রহন করা এবং কাজ করা যেতে পারে। উপজেলা নির্বাহী হিসেবে আমরা বিভিন্ন প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়ে থাকি।

অ্যাম্বুলেন্স সাধারনত হাসপাতালে থাকে ডাকতে হয়। এতে সাধারনত মা ও শিশু উপেক্ষিত থাকে। সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছেন একজন মা প্রসূতিকালের মায়ের কমপক্ষে চারবার তার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দরকার। টিকাগুলো ঠিকমতো দেয়া, তার উচ্চতা ও ওজন মাপা। এগুলো থেকে গ্রামের মেয়েরা উপেক্ষিত থাকে। মূলত মা এবং শিশুর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা যেন উন্নয়ন ঘটানো যায়।

তিনি আরো জানান, এলজিএসপি-২ এর অর্থায়নে প্রায় এক লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা হয়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা রোগী বহনে প্রস্তুত থাকে। স্থানীয়ভাবে এর বডি তৈরি করায় ব্যয়ও হয়েছে পরিমিত। আমরা যে সরকারি অর্থ খরচ করেছি সেখান থেকে কিছুটা নতুনত্ব প্রকাশ পাই এ চিন্তা ধারা থেকে মাতসেবা নামে অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হয়েছে। এটা পর্যায় ক্রমে উপজেলার প্রতিটা ইউনিয়ন পরিষদে চালু করা হবে।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ // ১৩ মে ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.