একাদশ শ্রেণীতে সর্বোচ্চ ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ

0

বিডিজার্নাল প্রতিনিধি :

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে পাঁচ হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আংশিক এমপিওভুক্ত বা এমপিওবহির্ভূত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও এমপিওবহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফি বাবদ বাংলা মাধ্যমে ৯ হাজার এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নয়ন খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। 
উচ্চ মাধ্যমিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির এমন ফি নির্ধারণ করে নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ৯ মে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির এ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। 
গতকাল সরকারি ও বেসরকারি কলেজে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশে ভর্তির প্রকাশিত এই নীতিমালা অনুযায়ী, মফস্বল/পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে এক হাজার, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি হবে না।
শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত এ নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনুমোদিত ফির বেশি নেওয়া যাবে না এবং অনুমোদিত সব ফি নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ দিতে হবে। ভর্তি নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটানো হলে বেসরকারি কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বাতিলসহ এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একাদশ শ্রেণির ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইন ও টেলিটক মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া আগামী ২৬ মে থেকে শুরু হবে। আগামী ৯ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীর। গতবারের মতো এবারও অনলাইনে (www.xiclassadmission.gov.bd) আবেদন করলে ১৫০ এবং মোবাইল ফোনে এসএমএস করলে ১২০ টাকা ফি দিতে হবে। তবে এবার আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে পছন্দের তালিকায় ১০টি কলেজের নাম দিতে পারবে। গত বছর পাঁচটি কলেজ পছন্দক্রমে দেওয়ার সুযোগ ছিল। প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ১৬ জুন। বিলম্ব ফি ছাড়া ১৮ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যাবে। তবে বিলম্ব ফি দিয়ে ১০ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হওয়া যাবে। ক্লাস শুরু হবে ১০ জুলাই। 
নীতিমালা অনুযায়ী, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের এসএসসি উত্তীর্ণরা ছাড়াও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের পরীক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো উল্লিখিত ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের ব্যবস্থা করবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। 
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো স্কুল অ্যান্ড কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে নিজ নিজ বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করেই অবশিষ্ট শূন্য আসনে ভর্তি করাতে পারবে। তবে সব ভর্তিই অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। 
বিভাগীয় এবং জেলা সদরের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ৮৯ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অবশিষ্ট আসনের মধ্যে পাঁচ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/সন্তানের সন্তান, তিন শতাংশ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ও জেলা সদরের বাইরের এলাকার শিক্ষার্থী, দুই শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্ত দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। আর নতুন করে এবার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য কোটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়, বিজ্ঞান শাখা থেকে উত্তীর্ণরা যেকোনো বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণরা মানবিকের পাশাপাশি ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় এবং ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে পারবে। সমান জিপিএ প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান জিপিএ প্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণে সাধারণ গণিত, উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় আনা হবে। প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতা হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থ ও রসায়নে প্রাপ্ত জিপিএ বিবেচনায় নিতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের ক্ষেত্রে সমান জিপিএ নিষ্পত্তির জন্য পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত জিপিএ বিবেচনা করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট গ্রেড পয়েন্ট একই হলে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলায় অর্জিত পয়েন্ট বিবেচনায় আনতে হবে। স্কুল ও কলেজ সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবেন। কোনো কলেজে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করতে পারবে। কলেজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র ইস্যু এবং ভর্তি করানো যাবে না। তবে সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের বদলিজনিত কারণে তাদের সন্তানদের ছাড়পত্র ইস্যু বা ভর্তি করতে পূর্বানুমতি নিতে হবে না। 
কলেজগুলোকে সংশ্লিষ্ট বোর্ডে ৭-১৮ আগস্টের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি এবং ২২ থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বোর্ডে জমা দিতে হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটলে বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে পাঠদানের অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলসহ কলেজের এমপিও বাতিল এবং সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বুধবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ১৬ লাখ ৪৫ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৬০৫ জন। পাসের হার ৮৮.২৯ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ // ১৩ মে ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.