এক বছর পর মায়ের কোলে‘হারানো’ উজ্জল

0

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি:

বৃহস্পতিবার সকাল দশটা। স্নিগ্ধ সকালে  সবুজের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা যখন ক্লাসে যেতো ব্যস্ত তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটে হঠাৎডুকরে কেঁদে ওঠেন নুরজাহান বেগম (৪১)। ‘সোনা বাপ আমার’বলে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকেন তিনি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ ধরে রাখতেনা পেরে কেঁদে ওঠেন বাবা গিয়াসউদ্দিন পোদ্দার (৫২)। দুজনের কাঁন্না দেখে সেখানে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা। কান্নাজড়িত কন্ঠে নুরজাহান বেগম বলেন,‘আল্লায় আপনাদের অনেক ভালো করুক। আমি আমার মানিকরে খুইজা পাইছি। আল্লায় আপনাগো ভালো করবো’।

নুরজাহান বেগম আর গিয়াসউদ্দিন পোদ্দারের এই আনন্দের কারণ দীর্ঘ এক বছরেরও বেশিসময় পর নিজ ছেলের খবর পাওয়ায়। গিয়াসউদ্দিন পোদ্দার বলেন,‘গত রমজানের(২০১৫ সালের) সময় ছেলে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজা খুঁজি করেছি কিন্তু কোনো খবর পাইনি’।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ জুন বাসা থেকে নিখোঁজ হয় গিয়াসউদ্দিন পোদ্দারের ছেলে মো: উজ্জ্বল(১২)। উজ্জলের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার পঞ্চসার উপজেলার দয়ালবাজার গ্রামে। অনেক খোঁজাখুজির পরও ছেলেকে না পেয়ে মুন্সিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা (ডায়েরি নং-৩৫২)। এদিকে এক বছর আগে নিখোঁজ হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট সংলগ্ন মার্কেটের সামনে দুইমাস আগে  (মে মাসের শেষ দিকে) তাঁকে আবিস্কার করেন দোকান কর্মচারীরা। সেখানেই তাকে খাবার দিয়ে রাখতেন তারা। সর্বশেষ ঈদের আগে উজ্জলকে দেখে তার সাথে কথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। তখন তারা উজ্জ্বলের খেয়াল রাখার জন্য দোকানদারদের বলেন। দুইমাস থাকা অবস্থায় উজ্জলের খাওয়া দাওয়া এমনকি গোসলও করিয়ে দিতেন দোকান কর্মচারীরা। দোকানমালিক মো: শান্ত মিয়া বলেন, ‘তাকে (উজ্জলকে) খাওয়া দাওয়াএবং গোসলের ব্যবস্থা করেছে কর্মচারীরা। এমনকি ঈদের সময় যখন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিলো তখনও তাকে এসে খাবার দিয়ে যাওয়া হতো’। ঈদের পরে ক্যাম্পাস খুললে কয়েকজন শিক্ষকএবং অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন উজ্জলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে তার পরিবারের খোঁজ জানাতে সবার কাছে সহযোতিগতা চান। ইসমাইল বলেন,‘আমার বাসা মুন্সিগঞ্জ হওয়ায় এই খবরটি স্থানীয় সব পেজ থেকে শেয়ার দেয়ার ব্যবস্থা করিএবংএবংআমার বন্ধু-বান্ধবদের খোঁজ নেওয়ার জন্য বলি। অবশেষে আমরা খবর পাই’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উজ্জলের ছবি দেখে স্থানীয় দুই তরুণের সহায়তায় ছেলের খবর গত মঙ্গলবার বিকেলে পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে ছেলেকে নিতে আসেন তার বাবা-মা।

এ বিষয়ে আন্তজার্তিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম রাসেল বলেন,‘একদিন কেনাকাটা করতে এসে দেখি একটি ছেলে মাটিতে শুয়ে আছে। ওর সাথে কথা বলে জানতে পারি বাসা মুন্সিগঞ্জ। পরে আমরা কয়েকজন শিক্ষকএবংশিক্ষার্থী মিলে তার খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করি। গতকাল তার পরিবারকে নিশ্চিত করা গেছে। কিন্তু দূরের পথ হওয়ার আজ( গতকাল বুধবার) সকালে আসতে বলা হয়েছ।’

উজ্জলের বাবা গিয়াসউদ্দিন পোদ্দার সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছেলেকে সাথে নিয়ে যান। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উজ্জল তার বাসায় পৌছেছেন।

বিডিজার্নাল৩৬৫ডটকম// আরডি/ এসএমএইচ // ২৮ জুলাই ২০১৬

Share.

About Author

Comments are closed.