প্রশ্নফাঁসের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা শেষ, কী প্রস্তুতি এইচএসসি পরীক্ষায়?

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রশ্নফাঁসের মধ্যে দিয়ে ২০১৮ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ হলো। ফেব্রুয়ারী জুড়েই পরীক্ষা চলে। আর শুরু থেকেই প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করা অব্যাহত রাখে। সরকারের কোন হাঁক ডাক আর বক্তব্য তাদেরকে নিবারণ করতে পারেনি। সঠিক সময়ে পরীক্ষার পূর্ব মুহুর্তে চক্রটি প্রশ্ন ফাঁস করেছে। সন্দেহভাজনভাবে কিছু তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশে দ্এুকজন অপরাধীকে ধরলেও বাস্তবে কোনো সুফল অথবা পরিত্রাণ শিক্ষার্থীরা পায়নি। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার সীমা ছিলনা। কারণ পরীক্ষার পূর্বে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা ছিলো প্রশ্নফাঁস প্রমাণ হলে পরীক্ষা বাতিল হবে, কঠোর হাতে প্রশ্নফাঁসকারী চক্রকে দমন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রনালয়, আইন শৃংখলাবাহীনী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরকে নিয়ে অনেক সভা বৈঠক করার পরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশ্নফাঁস চক্রকে থামাতে পারেনি। অনেক আশংকা, হতাশা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় লাখ লাখ কচি শিশুরা পরীক্ষা শেষ করে। নানাভাবে প্রশ্নফাঁসের নমুনা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার পায়। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা টিম নিরলসভাবে তৎপরতা চালিয়ে যায়। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা খুবই দায়িত্বশীল একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা। তাদের যথেষ্ট সুনাম আছে। তারা নিষ্ঠা আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে পারেনা এমন বিষয় নেই। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের এবিষয়ে তারাও একপ্রকার নিস্ফল। তাহলে কি এ চক্র এতোটাই চালাক ? সে কথার সাথে জনগণ অথবা অভিভাবকগণ একমত হতে পারেনা। দুর্নীতি অনিয়ম, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, দাগী আসামীকে মাটির ভেতর থেকে বের করে আনতে পারলে, প্রশ্নফাঁসকারী চক্রকে কেন পারবেনা সেটায় এখন জনমনে বেশী প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তর কী আমরা পেতে পারিনা? সংশি¬ষ্ট দায়িত্বশীল কর্তারাইিএর উত্তর ভালোভাবে দিতে পারবে। তাহলে মন্ত্রণালয়, ডিফেন্স, আইন শৃংখলা বাহিনী সকলকেই ফাঁকি দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া এ চক্র তাদের অনৈতিক কাজ চালাতে থাকবে? মোটেও এটার সাথে জনগণ একমত হবেনা। অবশ্যই তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তারাতো আর মাটির নিচে যায়নি। মাটির উপরেই তাদের বসবাস। সমাজে থেকেই তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সমস্ত সুবিধা ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম। তাহলে তারা ধরা পরবেনা কেনো। অবশ্যই তারা সমাজে আছে তাদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।যদি তা না হয়, তাহলে কী হব্ েএ পরীক্ষা আর শিক্ষার। দীর্ঘ এতোটি বছর দিন মাস, আর অনেকগুলো পরীক্ষা শেষ করে ১ম ধাপ সার্টিফিকেট পরীক্ষার এমন ভয়াবহ পরিণতির মরণখেলা কখন থামবে সেটায় সকলের চিন্তা। শিক্ষা বিধ্বংসী মরণব্যাধি থেকেই যে করেই হউক সমাজকে মুক্ত করতে হবে। শিক্ষক, ছাত্র-অভিভাবক রাষ্ট্রকে এক হতে হবে। সমস্ত খুটিনাটি সুবিধা আর অসুবিধা চিন্তায় এনে আগামী প্রজন্মের সাথে এ খেলা থামাতে হবে। এখানে একটি মহল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী তুলছে, এর সাথে অভিভাবকমহল একমত নয়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের চেষ্টার কোনো ত্রুটি এক্ষেত্রে দেখছিনা। গোটা দেশের একটি জাতীয় এ সমস্যাকে একমাত্র শিক্ষামন্ত্রীর ব্যর্থতা বলা যায়না। যারা তাঁর পদত্যাগ চাইছেন সেটা একটি রাজনৈতিক বক্তব্য বলে মনে করে অভিভাবকমহল। একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ হলে এর সমাধান হবেনা। আসল ও মূলে আমাদের সমস্যা খুঁজে দেখা দরকার। আসলে প্রশ্নফাঁস চক্রটি শিক্ষাখাতকেই ধ্বংস করতে চাইছে। মেধার বিকাশকে ধ্বংস করতে এ তৎপরতা। জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমাধান খুঁজতে হবে। যারা এ খেলায় মেতে উঠেছে তাদের মূল টার্গেট হলো অব্যাহত মেধাবিকাশ ধ্বংস করা। মেধাবিকাশ ধ্বংস হলে জাতির ধ্বংস অনিবার্য। এ ধ্বংস প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বেকার সমস্যা নিরসনে রাষ্টকে আরো তৎপর হতে হবে। শিক্ষিত বিপথগামী একটি অংশ এটার সাথে সম্পৃক্ত। তাদের কথা ভেবে রাষ্ট্রকে বেকারদের কর্ম সংস্থানের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। কোচিং সেন্টারে যারা শিক্ষকতা করে তারা শিক্ষিত বেকার। শিক্ষা জীবন শেষ করেও তারা কর্মসংস্থানের নাগাল পায়না। দেশে হাজার, লাখো কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড হচ্ছে। সেখানে বহু দুর্নীতি হচ্ছে। প্রয়োজন অপ্রয়োজনে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দেশে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হলে শিক্ষিত তরুণরা কর্মসংস্থান পাবে। যদি সময়মতো তাদের কর্মসংস্থান হয়, তাহলে বেকারের অভিশাপ থেকে শিক্ষিত যুবকরা পরিত্রাণ পাবে। প্রশ্নফাঁস, কোচিং বাণিজ্য বহু অংশে থেকে যেতে পারে। তাহলে শিক্ষিত যুবক তখন অনৈতিক শিক্ষা বিধ্বংসী কাজ হতে বিরত থাকতে পারে। এটাও অভিভাবকদের অভিমত। এসব বিষয় রাষ্ট্রকে চিন্তায় এনে শিক্ষিত যুবকদের বিষয় যদি চিন্তা করা হয় তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। আগামীতে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। ইতিমধ্যেই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হয়েছে। এ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ও  গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এখন থেকে এ  বিষয়ে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরীক্ষার প্রশ্ন যেনো ফাঁস না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার কঠোর হাতে আগে থেকেই  নানাভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আশা করা যায়, প্রশ্নফাঁসরোধ করা সম্ভব হবে। যেভাবেই হউক যথা সময়ে সরকার এসএসসি পরীক্ষা সমাপ্ত করতে পারায় তাদেরকে ধন্যবাদ। তবে পরীক্ষার মূল্যায়নে যেনো কোনো ধরনের অবৈধপন্থার আশ্রয় নেয়া না হয়। পরীক্ষার খাতার মূল্যায়ন যেনো যথাযতভাবে হয়। মন্ত্রণালয় বোর্ড, পরীক্ষকগণ যেনো প্রশ্নফাঁসের সে দিকে বেশী নজর না দিয়ে খাতার উত্তরপত্র যেনো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেন। পরীক্ষার্থীদের বিগত বছরের রেজাল্ট মূল্যায়ন যেনো নজরে রাখা হয়। কোনো পরীক্ষার্থীকে যেনো রেজাল্ট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে না হয়। খাতার মূল্যায়ন যথাযত হলে পরীক্ষার্থীরা স্বস্তি পাবে। কোনো কোনো পরীক্ষকের বিরুদ্ধে কিছুকিছু অভিযোগ পাওয়া যায়, কতিপয় ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে খাতার নাম্বার দেয়া হয়। এটাকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে দেখছি। এ ধরনের মানসিকতা থেকে সম্মানিত শিক্ষকদের বিরত থাকতে অনুরোধ করব। মনে রাখতে হবে একটি সঠিক রেজাল্ট অর্থ একজন ছাত্রের আগামী দিনের উচ্চশিক্ষার বাহন। এ বাহন যেনো কোনো অবস্থায় নড়েবড়ে হউক সেটা কেউ আশা করেন না। সঠিক মূল্যায়ন ও রেজাল্ট পদ্ধতি আশা করে অভিভাবকগণ ও শিক্ষার্থীগণ। সরকারের একটি দায়িত্বশীল মহল ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিস্তা না করতে বলেছেন। আমিও তার সাথে একমত। কেননা, যারাই উত্তরপত্রে সঠিকভাবে লিখতে পারবেন,তারা যথাযতভাবে মূল্যায়নের রেজাল্ট পাবেন। সেটায় আশা করে অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড যেনো সে ধরনের পদ্ধতিই রাখবেন এমনটিই আশা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। কোনো অবস্থায় প্রশ্নফাঁস চক্রের ফাঁদে যেনো শিক্ষার্থী পা না ফেলে। সে বিষয়ে শিক্ষক ছাত্র অভিভাবক ও রাষ্ট্রকে আরো কঠোর হতে হবে। প্রশ্নফাঁসকারীদের কঠোর আইনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সাব্বির// এসএমএইচ//৩১শে মার্চ, ২০১৮ ইং ১৭ই চৈত্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.