নানা সংকটে নিয়ে চলছে মমতাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান

0

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক, শিক্ষা উপকরনসহ নানা সংকট নিয়ে চলছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া মমতাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। শতভাগ পাশের হার থাক সত্বেও দীর্ঘ এক দশকে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী, অবিভাবক। ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী। শিক্ষা বিমুখসহ বাড়ছে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর চারিদিকে নদী বেস্টিত চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মমতাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ইউনিয়নের একমাত্র এ বিদ্যাপীঠকে ১৯৮৫ সালের সেপ্টম্বর মাসে সরকারী তালিকাভূক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের স্কুল ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়া ১৯৯৬ সালে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা। কিন্তু বিশ বছর না যেতেই ভবনটির ছাদের পলেস্তার ধসে পরে ভবনের খুঁটিতেও দেখা দেয় ফাটল। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

সরজমিনে দেখা যায়, টিনশেড একতলা একটি ভবনে মাদুর বিছিয়ে তার উপড় বসে তাদের লেখাপড়া করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যার একদিকে নেই বেড়া। টিনের চালে অসংখ্য ফুটো। ক্ষোভের সাথে বিদ্যালয়র বিভিন্ন শ্রেনীর শিক্ষার্থীরা জানান, বেঞ্চ না থাকার কারনে মাটিতে মাদুরে বসে তাদের ক্লাস করতে হচ্ছে। বৃস্টি হলে চাল দিয়ে পানি পড়ে বইপত্র ভিজে যাচ্ছে। শ্রেনী কক্ষে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বিজ্ঞানাগারে প্রয়োজনীয় উপকরন না থাকায় তাদের প্রাকটিক্যাল ক্লাস হয়না।

যেকোন সময় হতাহতের ঘটনা ঘটতে এমন শংকার কথা জানিয়ে অভিভাবক সাহাবুদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে ছেলে-মেয়ে বিদ্যালয়ে গেলে আতংকে থাকি। ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া বলেন, ভৌগলিকভাবেই সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন। ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় নানা সংকটে বঞ্চিত এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ বছরেও সংকট সমাধান না হওায়য় দিনদিন কমে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

ভবন সংকট, শিক্ষক সংকট ও বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রাদির সংকট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত  ৩৬০জন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষক রয়েছেন সাত জন। শিক্ষক সংকটের কারনে বর্তমানে পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। ৭৫জনই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়। যাদের মধ্যে ১১জন পেয়েছে এ প্লাস।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, চালিতাবুনিয়া মমতাজ উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত ভবনসহ সকল সমস্যার সমধান হবে।

সাব্বির// এসএমএইচ//২৪শে এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১১ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Share.

About Author

Comments are closed.